শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

পরিবেশ উপদেষ্টা

শুধু অভিযোজন নয়, দরকার বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাস

ডেস্ক রির্পোট

প্রকাশিত:
২৬ জুলাই ২০২৫, ১৪:৫৪

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, উদ্ভাবনী অভিযোজন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হলেও তা বিশ্বব্যাপী নির্গমন হ্রাসের বিকল্প হতে পারে না।

নোয়াখালী ও ফেনীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জটিল নদীপ্রবাহ এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, যা স্থানীয় বন্যা প্রতিরোধব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

তিনি বলেন, “অভিযোজনেরও সীমা আছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা অভিযোজন করতে পারি, ধ্বংসের আগে?”

শনিবার (২৬ জুলাই) ব্র্যাক সিডিএম, সাভারে অনুষ্ঠিত ফ্রুগাল ইনোভেশন ফোরাম ২০২৫-এ “Policy Perspective on Climate Adaptation in Agriculture, Food Security, and Livelihoods” শীর্ষক সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা বিশ্বব্যাপী প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান মানে হওয়া উচিত নদী, বন আর খাল রক্ষা; শুধু কার্বন অফসেট হিসাব করার জন্য গাছ গোনা নয়, যখন নির্গমন কমানোর আন্তরিক প্রতিশ্রুতি অনুপস্থিত।”

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্যকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার না করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোই এখন সময়ের দাবি। কৃষিখাতে দুর্বলতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি তামাক ও ক্যাসাভা চাষ সম্প্রসারণের মতো ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ করে জনগণের জ্ঞান ও অংশগ্রহণভিত্তিক পুনর্জাগরণমূলক কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

“শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাটাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য,” যোগ করেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অভিযোজনভিত্তিক অর্থায়নের বণ্টনে তৃণমূল, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নীতিনির্ধারক ও জনগণের মধ্যে দুইমুখী যোগাযোগ দরকার।”

তিনি অভিযোজন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকার ও জনগণকে ‘নেতৃত্বের আসনে’ বসানোর আহ্বান জানান।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে সংস্কার আনা এবং সমন্বয় ও অর্থবণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে নতুন প্ল্যাটফর্ম যেমন বিসিডিপি চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি গাছ সংরক্ষণ আইন, বিদ্যালয়ভিত্তিক পুনরোপণ কর্মসূচি ও ভূমি সংরক্ষণ উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও আলোকপাত করেন এবং প্রকৃতিকে সম্মান জানাতে মনোভাবগত পরিবর্তনের উপর জোর দেন।

তার বক্তব্যের শেষে উপদেষ্টা সতর্ক করেন, “উন্নয়নের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। জলবায়ু সহনশীলতা শুধু টিকে থাকার বিষয় নয়, এটি আমাদের মূল্যবোধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান।”

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল হান্নান, ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রদর্শনীর স্টল পরিদর্শন করেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর