প্রকাশিত:
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:১১
আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে এ বছর ১২০০ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ৩৭ প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে ইলিশ পাঠানো শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে তিনটায় প্রথম চালানে ১১৯২ কেজি ইলিশ মাছ ভারতের আগরতলায় পাঠানো হয়েছে।
রফতানিকারকরা জানিয়েছে, প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য ছিল ১২.৫০ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ১৫৩৩ টাকা।
আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোঃ শাহ নেওয়াজ ভূঁইয়া শানু জানান, দুটি পিকআপে ৫৩ বক্সে ১১৯২ কেজি ইলিশ মাছ ভারতের আগরতলায় রফতানি করে বেনাপোলের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মাহতাব এন্ড সন্স। কেজিপ্রতি সাড়ে ১২ ডলারে ইলিশ মাছ রফতানি করা হয়েছে। প্রতিটি ইলিশ মাছের ওজন ৯০০গ্রাম থেকে এক কেজি করে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও কোয়ারান্টাইন কর্মকর্তা অতিরিক্ত মোঃ রেজাউল করীম জানান, স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ১১৯২ কেজি ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে। আইস এবং মাছের ফিজিকেল ফিটনেস পরীক্ষা করে রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছর এই স্থলবন্দর দিয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩৬ টন মাছ ভারতের রপ্তানি হয়েছিল। প্রতি কেজি ইলিশের রফতানি মূল্য ১৫ ডলার হলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভাল হত।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৃহৎ বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বিভিন্ন উৎসবে দেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় খাবার ও পণ্য রফতানি হয় ভারতে। পদ্মার রূপালী ইলিশ মাছ স্বাদ আর গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় দুই বাংলায় বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে দুর্গাপূজায় অতিথি আপ্যায়নে খাবারের প্রধান তালিকায় ইলিশ রাখে সবার উপরে বাঙালিরা।
আগে ইলিশ মাছ সাধারণ রফতানি পণ্যর তালিকায় উন্মুক্ত থাকলেও উৎপাদন সংকট দেখিয়ে ২০১২ সালে দেশের বাইরে রফতানি বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে ২০১৯ সাল থেকে বিশেষ বিবেচনায় কেবল দুর্গাপূজায় ভারতে ইলিশ রফতানির সুযোগ দেওয়া হয়।
এবছর ব্যবসায়ীরা দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ রফতানির অনুরোধ জানায় অন্তবর্তী সরকারের কাছে। এর পেক্ষিতে ৩৭ প্রতিষ্ঠানকে ১২০০ টন ইলিশ রফতানির সুযোগ দেয় সরকার। আগামী (৫ অক্টোবর) এর মধ্যে ইলিশ রফতানি শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন: