প্রকাশিত:
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:২৬
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পশ্চিমাংশ দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে শরতের মাঝামাঝি সময়ে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধির কারণে ফের বন্যা শুরু হয়েছে। এই বন্যায় চরাঞ্চলের কৃষকদের রোপা আমন ধান ও রবিশস্য ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়াও নদী ভাঙ্গনের হুমকিতে পড়েছে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের অন্তত: ৫ হাজার মানুষের বসতভিটা ও শতশত একর ফসলি জমি।
সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, ইসলামপুরের সিন্দুরতলী-শীলদহ থেকে উৎপত্তি হওয়া যমুনার একটি শাখা নদী শীলদহ, প্রজাপতি, চরশিশুয়া, কাশারীডোবা ও আকন্দ পাড়া হয়ে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এই শাখা নদীটির বামতীরে বেলগাছা ইউনিয়নের শীলদহ পয়েন্ট এবং সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি থেকে চরশিশুয়া পর্যন্ত এক হাজার মিটার এবং কাশারীডোবা থেকে আকন্দ পাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মিটার এলাকা জুড়ে গত তিন বছর ধরে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন চলছে। সম্প্রতি আকস্মিক বন্যায় কাশারীডোবা থেকে আকন্দ পাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মিটার এলাকায় নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এছাড়াও যমুনার অপর একটি ছোট্ট শাখা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে সাপধরী ইউনিয়ন এর জোরডোবা, কটাপুর, কোদাল ধোয়া ও রায়ের পাড়া গ্রাম সমূহের বিস্তীর্ণ জনপদ ভেঙ্গে একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এলাকাবাসী ওই ভাঙ্গন রোধের জন্য নদী তীরে কয়েক দফা মানববন্ধন কর্মসুচী পালনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছে।
অপরদিকে সাপধরী ইউনিয়নের সচেতন মহলের দাবীর মুখে নদী ভাঙ্গন রোধে এবছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কাশারীডোবা পয়েন্টে মাত্র ২১০মিটার এলাকায় ৩৬ হাজার ৫৭টি জিও ব্যাগ এবং ১ হাজার ৫০টি টিউব ব্যাগ বালি ভর্তি করে ডাম্পিং করা হয়েছে। এরপরেও সাম্পতিক কালের আকস্মিক বন্যার ভয়াবহ স্রোতে কাশারীডোবা ডাম্পিং স্পটের উজানে ২শ মিটার এবং ভাটিতে আকন্দপাড়া পর্যন্ত অন্তত: ১৫শ মিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি নদী ভাঙ্গনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যেই নদীটির ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে কাশারী ডোবা ডাম্পিং স্পটের মাঝ খান থেকে ৬০ মিটার ও উজান থেকে ৩০ মিটার এলাকা নদীতে ধ্বসে পড়ে গভীর পানিতে ডুবে যায়। তবে এ ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ধ্বসে পড়া অংশ দু'টি দ্রুত পূণ: মেরামত করেছেন। তবে সাপধরীর কাশারী ডোবা থেকে আকন্দপাড়া পর্যন্ত দুই হাজার মিটার ভাঙ্গন এলাকার মাঝখানে মাত্র ২৫০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে যাহা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
এদিকে সম্প্রতি শরতের মাঝামাঝি সময়ে যমুনায় আকম্মিক পানি বৃদ্ধিতে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা। এই বন্যার তীব্র স্রোতে আবারো কাশারীডোবা থেকে আকন্দপাড়া পর্যন্ত এলাকায় নদীটির বাম তীরে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। এতে যেকোন মূহুর্তে কাশারীডোবা ডাম্পিং স্পটসহ পুরো এলাকাটি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব এএসএম আব্দুল হালিম জানান, ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের অন্তত: ৫ হাজার মানুষের বসতভিটা ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি রক্ষায় সেখান জরুরী ভিত্তিতে নদী ভাঙ্গন রোধে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন: