প্রকাশিত:
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৮:২৭
সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সংকট নিরসনে এক নতুন ধারা যাত্রা করেছে। নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম এবং সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক জীবনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। তাদের দৃঢ় নেতৃত্ব, স্বচ্ছ দৃষ্টি ও আন্তরিক উদ্যোগে সিলেট আজ একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আশা-জাগানো পথে এগোচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম সাহসী পদক্ষেপ নেন সিলেটের আলোচিত সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায়। চলমান উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়, যা প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ উদ্যোগে সিলেটবাসীর আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে।
এর পাশাপাশি নগরীর ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন। সংশ্লিষ্ট মহল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের সাথে মতবিনিময় করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেই নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে। লালদিঘীরপাড়ে অস্থায়ী হকার্স মার্কেট প্রস্তুতের মাধ্যমে হকারদের সম্মানজনক পুনর্বাসনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি প্রশাসনের দূরদর্শিতা ও মানবিকতার প্রতিফলন, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নাগরিক সমস্যাগুলোকে সরাসরি প্রাধান্য দেন। নগরবাসীর মতামত শুনে তিনি দ্রুততম সময়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। জনসচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।
নগরীর অন্যতম বড় সমস্যা ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণে তিনি কার্যকর অভিযান শুরু করেন। ২১ সেপ্টেম্বরের পর অবৈধ যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা অনুযায়ী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তিনদিনে ২৬১টি অবৈধ যানবাহন আটক করা হয়েছে এবং ৮০টিরও বেশি মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে নগরীর যানজট কিছুটা হলেও কমেছে, আর নাগরিকদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
এই দুই কর্মকর্তার সমন্বিত নেতৃত্বে সিলেটের প্রশাসন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আইন, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও মানবিকতার সমন্বয়ে তারা নগরজীবনকে সহজতর করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা দেশব্যাপী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ কেবল শুরু নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে। ফুটপাত দখলমুক্ত নগরী, যানজটহীন সড়ক এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশামুক্ত মহানগরী গড়ে তোলা সম্ভব হলে সত্যিই সিলেট একটি আধুনিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ শহরে পরিণত হবে।
প্রশাসনের এ দৃঢ় অঙ্গীকার ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপে প্রমাণিত হচ্ছে-যদি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকে এবং তা সততা, দূরদর্শিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়, তবে নাগরিক জীবন বদলে দেওয়া সম্ভব। সিলেট এখন সেই বদলের সাক্ষী।
মন্তব্য করুন: