প্রকাশিত:
১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:১১
বিশ্ব পরিবেশ দিবস (ডঊউ) প্রতি বছর ৫ জুন পালিত হয় এবং এই দিনটি পরিবেশ সুরক্ষার জন্য সচেতনতা এবং পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে। জাতিসংঘ প্রতি বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করে এবং এই বছরের প্রতিপাদ্য হল " বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণের অবসান "।
পরিবেশের তাৎপর্য
পরিবেশ আমাদের জীবন-সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, যা প্রদান করে: অক্সিজেন এবং পরিষ্কার বাতাস: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে বায়ু বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। জল সম্পদ: পানীয়, কৃষিকাজ এবং শিল্পের জন্য নদী, হ্রদ এবং ভূগর্ভস্থ জল। খাদ্য সরবরাহ: কৃষি এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল মানুষ এবং বন্যপ্রাণীর জন্য জীবিকা নির্বাহ করে।
জীবনে পরিবেশের গুরুত্ব
পরিবেশ আমাদের বিশুদ্ধ বাতাস, পানি, খাদ্য, উপকরণ এবং বিনোদনের জন্য জায়গা দেয়। প্রকৃতিতে সময় কাটানো আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। যদি আমরা গ্রহ, এর জলবায়ু এবং বাস্তুতন্ত্রের যত্ন না নিই, তাহলে আমরা আমাদের সমাজ কীভাবে কাজ করে তা নষ্ট করি, আমাদের জীবনকে আরও খারাপ করি এবং সম্ভবত সবচেয়ে সরাসরি আমাদের নিজস্ব সুস্থতার ক্ষতি করি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের গুরুত্ব?
বিশ্ব পরিবেশ দিবস হল পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দিবস। প্রতি বছর জাতিসংঘ এই দিবসটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে একত্রিত করে আমাদের গ্রহকে রক্ষা এবং পুনরুদ্ধারের জন্য একটি যৌথ লক্ষ্যে, সরকার, ব্যবসা, সম্প্রদায় এবং ব্যক্তিদের টেকসই পরিবর্তন আনার জন্য ক্ষমতায়ন করে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫: পরিবেশ বাঁচাতে আমাদের ছোট্ট উদ্যোগেই বড় পরিবর্তন সম্ভব। বর্তমান সময়ে আমরা একটু থেমে আমাদের চারপাশটা যদি দেখি-বাতাসে কালো ধোঁয়া, চারপাশে ধুলো, গরমে অস্থির, নদীর পানি কমে যাচ্ছে, গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের এই পরিবেশকে রক্ষা করার জন্য বৃক্ষের কোনও বিকল্প নেই। বৃক্ষ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, বাতাস বিশুদ্ধ রাখে, জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখে, এমনকি মানসিক প্রশান্তিও দেয়।
আমাদের ব্যবহার্য যে দ্রব্যটি পরিবেশ দূষণের পেছনে অন্যতম অবদান রাখছে তা হলো প্লাস্টিক। প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও পরিবেশের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা কি আমরা ভেবে দেখি না। পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে প্লাস্টিক দ্রব্য ব্যবহার কমিয়ে আনার ব্যাপারে সবাইকে তৎপর হতে হবে এবং ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলে এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
প্লাস্টিক এড়ানোর কয়েকটি উপায় আমরা অনুসরণ করতে পারি
বেলুন: কোনো অনুষ্ঠানে বেলুনের পরিবর্তে কাগজের তৈরী পম্পম ব্যবহার করে ঘর সাজানো যায়। পম্পম দিয়ে ঘর সাজালে তা যেমন ঘরের সৌন্দর্য্য রক্ষা করবে তেমনি পরিবেশ বান্ধবও হবে।
ঝুড়ি: আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলে ঝুড়ি ব্যবহার করতে হবে।তা নাহলে এই ময়লাগুলোকে নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে স্তূপাকারে জমা করা হয়। যা নদীর পানি, মাছ সবকিছুকে নষ্ট করে দেয়।
নদীতে ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকা: নদী, পুকুরে,খালে ইচ্চেমতো ময়লা ফেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।কারণ এগুলো পানি দূষণ করে এবং মাছগুলো মরে যায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বিশ্বের অর্ধেক জায়গাতেই সমুদ্রের বাসকারী কচ্ছপেরা মারা যায় এইসব প্লাস্টিক,বর্জ্যরে কারণে।
ক্লাব কর্মসূচি: স্কুলগুলোতে পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন ক্লাব খোলা যেতে পারে। যেখানে পরিবেশ রক্ষা সপ্তাহ, মিটিং, মেলার মতো কর্মসূচি থাকবে। এতে করে শিশুদের মাঝে সচেতনতা বাড়বে, তারা দায়িত্বশীল এবং যত্নবান হবে পরিবেশ যত্নে।
এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি: নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। প্রতিবাড়ি থেকে প্লাস্টিক দ্রব্য অপসারণ, প্লাস্টিকের বদলে পরিবেশ বান্ধব অন্যকিছু ব্যবহারে পরামর্শ প্রদান, ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা এভাবে জনসচেতনতা তৈরী করা যেতে পারে।
পুনরায় ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য: এক গবেষনায় দেখা গেছে, আমেরিকানরা তাদের আবর্জনার মাত্র ৩৫% পুনরায় ব্যবহার করতে পারে। কীভাবে এগুলোকে ব্যবহার করা যায় বা কোন দ্রব্যগুলো পুনঃব্যবহারযোগ্য তা জেনে ব্যবহার করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে দিনে ৫০কোটি প্লাস্টিক স্ট্র ব্যবহার করেন। এক্ষেত্রে কোনো ধাতুর তৈরী বা কাগজের স্ট্র ব্যবহার করা যায়।
উপহার: উপহার হিসেবে কাগজের বিভিন্ন সামগ্রী দেয়া যায় ।যেমন, কোনো কুপন, কার্ড, ঘরে তৈরী কোনো উপহার দেয়া যেতে পারে।
আমাদের মাটি, পানি, বায়ু প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক দ্বারা দূষিত হচ্ছে। এছাড়া প্লাস্টিক স্টিরিন নামক ক্ষতিকর পদার্থ নির্গত করে, যা মানবদেহে তৈরি করতে পারে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি। মোটকথা, প্লাস্টিক পদার্থটি কোনোভাবেই পরিবেশ ও মানবজীবনের জন্য উপকারী নয়। বরং এর ব্যবহারে পরিবেশ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাতে পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । এক গবেষণায় দেখা গেছে সমুদ্রে প্রতিবছর ৮০ লাখ টনেরও অধিক পরিমাণ প্লাস্টিক দূষণ হয়। তাই প্লাস্টিক এড়িয়ে চলে তার পরিবর্তে অন্যকিছু ব্যবহার করতে হবে ।
পরিবেশ রক্ষায় আমাদের করণীয়:
# নিজের জায়গা অনুযায়ী অন্তত একটি গাছ লাগাই এবং যত্ন নেই।
# প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে দেই। কাপড়ের ব্যাগ বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করি।
# পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হই।
# পরিবেশ রক্ষায় নিজে সচেতন হই, পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মীকেও সচেতন করি ।
# অফিস, বাসা, নিজ এলাকায় যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করি ।
পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের কাজ নয়, এটা আমাদের সবার দায়িত্ব।
আমাদের ছোট্ট উদ্যোগই আগামীতে বড় পরিবর্তন আনবে।
গাছ লাগাই, প্রকৃতিকে ভালোবাসি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাই একটি সবুজ পৃথিবী।
** গবেষনার সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি।
লেখক: রেহানা ফেরদৌসী, সহ সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ,
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (কেন্দ্রীয় পুনাক), মোহাম্মদপুর, ঢাকা।
মন্তব্য করুন: