প্রকাশিত:
৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:০২
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর)। ছয় বছর পার হলেও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যার রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ।
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরার ফাহাদের বাড়িতে আজও আগের মতোই সাজানো আছে তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন, ল্যাপটপ ও পড়ার টেবিল। শোকেসে গুছিয়ে রাখা আছে প্রিয় সন্তানের স্মৃতিচিহ্ন। তবে এই বাড়িতে নেই আবরার— আছে শুধু তার স্মৃতি, না পাওয়ার কষ্ট আর শোকের ভার। সেই স্মৃতিই আজ তাদের জীবনের একমাত্র অবলম্বন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর মা রোকেয়া খাতুন নিজ হাতে খাইয়ে কুষ্টিয়া থেকে বাসে তুলে দিয়েছিলেন আবরারকে বুয়েটের উদ্দেশ্যে। সেটিই ছিল মায়ের সঙ্গে সন্তানের শেষ দেখা। সেই রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে।
মৃত্যুর ছয় বছর পরও রায় কার্যকর না হওয়ায় শোক ও ক্ষোভে পুড়ছেন আবরারের বাবা-মা।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, “যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে আমার ছেলে শহীদ হয়েছে, সেই স্বপ্ন পূরণে আমরা এখনো অপেক্ষায়। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।”
বর্তমানে মা রোকেয়া খাতুন ঢাকায় বসবাস করছেন আবরারের একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজের সঙ্গে, যিনি বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে, আবরারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, “শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা দেয়। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করার দাবি জানাই।”
গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহা বলেন, “শহীদ আবরার ফাহাদ শুধু একটি নাম নয়, একটি স্ফুলিঙ্গ— যে অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস শিখিয়েছে। তার খুনিরা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে— এটা আমাদের জাতির জন্য লজ্জাজনক।”
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটে সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড আজও নাড়িয়ে দেয় পুরো জাতিকে। আবরারের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এলাকাবাসীও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন: