প্রকাশিত:
৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:১১
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে তোমাদের জয়ধ্বনি শোনা যায়, তোমাদের সংগ্রামের স্বীকৃতি হবে, তোমাদের বিজয়ের আনন্দ হবে এবং আগামী দিনে তোমরাই এ দেশের নির্মাতা হবে।” তিনি বলেন, “আজকের কন্যাশিশুরা আগামীর নারী।”
বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) কাজী গোলাম তৌসিফ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক দিলারা বেগম এবং শিশু বক্তা মোছাম্মদ আনিকা ও নুসরাত জাহান এমি।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমি কন্যাশিশু-স্বপ্নে গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি’- এটি যেন আমাদের কন্যাশিশুদের বিকাশের ইতিবাচক দিকগুলোকেই ইঙ্গিত করে। এই প্রতিপাদ্যের মূল তাৎপর্য হলো, কন্যাশিশুদের আত্মমর্যাদা, দক্ষতা, সাহসিকতা ও নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের বিকাশের জন্য ইতিবাচক ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। একটি কন্যাশিশু পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে বৈষম্যের শিকার হয়েই নারী হিসেবে বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু কন্যাশিশুদের অন্ধকারে রেখে একটি সুষ্ঠু সমাজ কাঠামো গড়ে তোলা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি দেশকেও আলোকিত করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “কন্যাশিশুদের অগ্রগতিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলোর বিপরীতে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রকে কী করণীয় তা নিয়ে আলোচনা করে কার্যকর সমাধানের পথ বের করতে হবে।”
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “কন্যাশিশুরা এখন আর বোঝা নয়। তারা প্রমাণ করেছে- সুযোগ পেলে তারাও দক্ষ, যোগ্য ও নেতৃত্বে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। ভুলে গেলে চলবে না, একজন নারী এক মানবসম্পদ, আর কন্যাশিশুরা সেই সম্পদের অঙ্কুর। বাংলার নারীরা আজ ঈর্ষণীয় সাফল্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে- শিক্ষিত হচ্ছে, নতুন নতুন পেশায় যুক্ত হচ্ছে, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলছে, নারীরা এভারেস্ট জয় করছে—আজ তারা কোথায় নেই! যখন মেয়েরা, শিশুরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তখন দেশও মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সব অনিয়ম দূর করতে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এনেছি। সমাজে শিশুদের উপর নির্যাতন সবচেয়ে নিকৃষ্টতম কাজ। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে যদি কোনো মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়, আমার মন্ত্রণালয়ের টিম সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে। তোমাদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব কমাতে আমার ফেসবুকে একটি বারকোড দেওয়া আছে—এর মাধ্যমে তোমরা সরাসরি আমার কাছে পৌঁছাতে পারবে। আজ থেকে তোমাদের সঙ্গে আমার সংযোগ তৈরি হলো।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৫ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, এবং উপদেষ্টা শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল গেট থেকে শিশু একাডেমি পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি, মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গার্ল গাইডসের রেঞ্জার সদস্য এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্যরা।
মন্তব্য করুন: