প্রকাশিত:
৯ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৫০
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল।
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোটের’ সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. ইব্রাহিম হোসেন রনির বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করে বুধবার (৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে দুইটার দিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ছাত্রদল।ছাত্রদলের অভিযোগে বলা হয়, ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন রনি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ভবনে (নতুন কলা ভবন) গিয়ে ইতিহাস বিভাগের ৩২৩ নম্বর শ্রেণিকক্ষে প্রচারণা চালান। শ্রেণিকক্ষের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রায় ২০ মিনিট ধরে প্রচারণা চলে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ জানানোর সময় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলুসমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন, জিএস প্রার্থী শাফায়েত হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক পদপ্রার্থী তৌহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনি আচরণবিধিমালার ৪(ঙ) ধারায় বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষ বা এর আশপাশে সভাুসমাবেশ করা যাবে না। কোনো প্রকার সাউন্ড সিস্টেম বা মাইক ব্যবহার করে শিক্ষাকার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি নিষিদ্ধ।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ছাত্রশিবির প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস প্রার্থী মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, ‘ইব্রাহিম হোসেন রনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে শ্রেণিকক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের পর কমিশন ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইব্রাহিম ইতিহাস বিভাগে প্রচারণা চালাতে যাননি, নিজের জুনিয়রদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। উল্টো ছাত্রদলুসমর্থিত প্রার্থীরা শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে প্রচারণা চালিয়েছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। আমরা সেটিও জানাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ অভিযোগ করতে পারে। কমিশন যদি ব্যাখ্যা চায়, আমরা জবাব দেব।’
এদিকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রশিবিরও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দেয় নির্বাচন কমিশনে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বুধবার দুপুর ১২টা ৩০ থেকে ১টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের এলএলএম শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালীন সময়ে আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী নাঈম উদ্দিন ক্লাসে প্রবেশ করে প্রচারণা চালান। তিনি লিফলেট বিতরণ ও অন্যান্য প্যানেলের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক মন্তব্য করেন, যা শিক্ষাকার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়।
অভিযোগে বলা হয়, এ ঘটনাটি চাকসু নির্বাচন আচরণবিধির ৪(ঙ) ধারার লঙ্ঘন। ওই ধারায় শ্রেণিকক্ষে বা পাঠদান চলাকালীন সময়ে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটির ভিডিও প্রমাণ তারা নির্বাচন কমিশনের সচিব বরাবর পাঠিয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও প্রমাণ মিলবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা ভিডিওসহ অভিযোগ জমা দিয়েছি। ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছাত্রদলের এক কর্মী প্রচারণা চালিয়েছে এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য দিয়েছে। আমরা আশা করি, কমিশন ব্যবস্থা নেবে।’
চাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দুটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। আচরণবিধি দেখাশোনার জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে লিখিত অভিযোগটি হস্তান্তর করা হবে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিব।’
মন্তব্য করুন: