প্রকাশিত:
১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৪:৫০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বার আউলিয়া বিলে গড়ে উঠেছে সাইনবোর্ডবিহীন এক কারখানা, যেখানে পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে সড়কে ব্যবহৃত কালো তৈলাক্ত পদার্থ—যা বিটুমিন নামে পরিচিত। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে গাছের কাঠ জ্বালানি হিসেবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সারাদিন বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যা নামার পরই শুরু হয় প্রস্তুতি, আর রাতভর চুল্লিতে জ্বলে টায়ার। উৎপাদিত তরল পদার্থ বড় লোহার কন্টিনারে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করা হয়।
চিমনি দিয়ে সারারাত কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এতে আশপাশের পরিবেশ, বিলের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টায়ার পোড়ানোর ফলে বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়। এসব গ্যাস বায়ু দূষণ ঘটায় এবং শ্বাসকষ্ট, ত্বকের সমস্যা ও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া পোড়ানো ছাইয়ের ভারী ধাতু মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিকেও দূষিত করে।
পরিবেশ রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘তরী বাংলাদেশ’ নামের সামাজিক সংগঠন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আজ তরী বাংলাদেশের মাধ্যমে জানতে পারি। কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই, আর এমন ধরনের কারখানার অনুমোদনের সুযোগও নেই। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন: