প্রকাশিত:
১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:২৮
সংসদীয় আসন ৬১, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন নেতার ভিন্ন বক্তব্যে সাধারণ কর্মীরা এখন দ্বিধায় ভুগছেন।
নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও নাটোর-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল আজিজ দাবি করেছেন, ১২ অক্টোবর (রবিবার) রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে তাকে ফোন দিয়েছেন। কথোপকথনে তাকে নির্বাচনী মাঠে থাকার এবং নির্বাচন প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানান আজিজ। চার মিনিটের ওই ফোনালাপে তারেক রহমান দলীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরদিন ১৩ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের আহম্মেদপুর বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “আব্দুল আজিজকে লন্ডন থেকে তারেক রহমান ফোন দিয়েছেন। আমি তার পাশে আছি। তার নির্বাচনী এলাকায় আমি নিজেও প্রচারণায় অংশ নেব।” তিনি দলীয় কর্মীদের আজিজের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তবে ওই দাবির পরপরই নাটোর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নাটোর-৪ এর মনোনয়নপ্রত্যাশী ব্যারিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল রঞ্জু পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় গুরুদাসপুরে প্রয়াত এমপি এম মোজাম্মেল হকের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, “তারেক রহমানের ফোন পাওয়া নিয়ে যে দাবি করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট না। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। অতীতেও এমন ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডে জানিয়েছি, কোনো সত্যতা পাইনি।”
রঞ্জু অভিযোগ করেন, “আজিজ সমর্থকরা এখন আমাদের ব্যানার ও সাইনবোর্ড ছিঁড়ে ফেলছে, অফিস বন্ধের হুমকি দিচ্ছে।” তবে তিনি সকল কর্মীদের ধৈর্য ধারণ ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল আজিজ বলেন, ব্যানার ফেস্টুন সাইনবোর্ড কখনো ছিঁড়ে ফেলা হয়নি।অফিস বন্ধ করে দেওয়ারো কোন কথাও আসেনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যা বলার দুঃসাহস আমার নাই। বিএনপির সকল নেতা কর্মি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে চাই।
এদিকে, গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “ধানের শীষ যার, আমরা তার। মনোনয়ন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত থেকে ধৈর্য ধরতে হবে।”
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এ বিষয়ে বলেন, “দলীয়ভাবে এমন কোনো বার্তা আমাদের কাছে আসেনি। যেহেতু বিষয়টি তারেক রহমানকে জড়িয়ে বলা হচ্ছে, তাই আমি মন্তব্য করতে চাই না।”
রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের কাছেও কোনো বার্তা বা নির্দেশনা নেই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৪ আসনে বর্তমানে কয়েকজন নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে একাধিক পক্ষ মাঠে থাকায় দলীয় অভ্যন্তরে উত্তেজনা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে সিনিয়র নেতারা।
মন্তব্য করুন: