শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

বন্দরের অচলাবস্থা সাময়িক নিরসন পণ্যবাহী গাড়ির বর্ধিত ফি স্থগিত

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
২০ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:২৮

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেইট পাসের ফি বৃদ্ধির ঘটনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাইম মুভার, ট্রেইলার মালিকরা নিজেদের গাড়ি চালাচ্ছেন না ১৪ অক্টোবর রাত থেকে। একই দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতি। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পালন করছেন চার ঘণ্টার কর্মবিরতি।ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। অবশেষে রোববার বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে বৈকঠকের পর নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেইট পাসের ফি বৃদ্ধির ঘটনায় অচলাবস্থা সাময়িকভাবে নিরসন হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে বর্ধিত ফি স্থগিত থাকবে।রোববার বিকেলে পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি, ট্রেইলার শনিবার থেকে বন্ধ।আমদানি পণ্য ডেলিভারি বন্ধ ছিল। বন্দর চেয়ারম্যান মহোদয়ের সভাপতিত্বে শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হয়েছে। সরকারি অনুমোদনক্রমে জারি করা এ গেজেট বন্দর প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এটা আসলে কোনোরকম কারেকশন কিংবা বন্ধ করতে পারে না। তারপরও পরিবহন শ্রমিকদের বিষয়টা বিবেচনা করে, যেহেতু এ বিষয়টির সঙ্গে দেশের আমদানি রপ্তানি জড়িত তাই এ কার্যক্রম দ্রুত চালু হওয়া উচিত তাই চেয়ারম্যান মহোদয়সহ বন্দরের সদস্যরা সবাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শুধু যানবাহন খাতে যে ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে সেটা স্থগিত থাকবে।

আমরা চবক বোর্ডে সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবো। প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে আসলে আপনারা জানতে পারবেন কী সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত তা স্থগিত থাকবে। উপস্থিত শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা আশ্বস্ত করেছেন তারা কাজে ফিরে যাবেন। বাইরে প্রায় ৬ হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান অপেক্ষা করছে। সব বন্দরে ডেলিভারি বা রপ্তানি কাজে নিয়োজিত হবে।

লিখিত জানানোর বিষয়ে সচিব বলেন, চিঠি দেওয়ার দাপ্তরিক কার্যক্রম রয়েছে। সভার কার্যবিবরণী হয়তো সংশ্লিষ্টরা পেতে পারেন। পুরো এখতিয়ার সরকারের। যেহেতু ট্রাক, লরি, কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে বন্দরের ডেলিভারি, আমদানি রপ্তানি সরাসরি সংশ্লিষ্ট তাই সরকারি সিদ্ধান্তের জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে।

আন্তঃজেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও বিভাগীয় পণ্য পরিবহন ফেডারেশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মো. শামসুজ্জামান সুমন বলেন, বন্দর চেয়ারম্যান পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে নতুন ট্যারিফ শিডিউলের বর্ধিত ফি স্থগিত থাকবে। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আপাতত আমাদের ২৩০ টাকা দিতে হবে না। আগের মতো ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা ফিতে পাস নিতে পারব আমরা। যদি আমরা ৫৭ টাকা ৫০ পয়সাতে পণ্যবাহী গাড়ির পাস পাই তাহলে আমাদের গাড়ি বন্দরের পণ্য পরিবহন করবে। প্রতিদিন আমাদের ৮-৯ হাজার গাড়ি বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক কাভার্ডভ্যান চলাচল করে।

আরেক পরিবহন শ্রমিক নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় আলোচনার পর বন্দর চেয়ারম্যান পণ্যবাহী গাড়ির গেট পাসের বর্ধিত ফি স্থগিতের কথা জানিয়েছেন। স্থগিত করার লিখিত কাগজ পেলে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবো। যেহেতু এটা কার্যকরের বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, তাই স্থগিতের বিষয়টিও লিখিতভাবে জানালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেইট পাসের ফি বৃদ্ধির ঘটনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাইম মুভার, ট্রেইলার মালিকরা নিজেদের গাড়ি চালাচ্ছেন না ১৪ অক্টোবর রাত থেকে। একই দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতি। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পালন করছে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল।

এর আগে শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নেভি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবায় অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপের প্রতিবাদে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন ট্যারিফ সমস্যার সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ফোরামের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর