প্রকাশিত:
২১ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:৩৫
শরীয়তপুর জেলা জাজিরা থানার কাচিকাটা নদীতে নৌ পুলিশের ধাওয়া এবং ছড়া গুলির মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের কুলাগাজী তালুক ২ নং ওয়ার্ড এর স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার মাঝির তৃতীয় সন্তান আবেদ ২০ নামের এক যুবক। (১৩ অক্টোবর) সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা ১৮৩ ঘন্টা পার হলেও এখনো তার কোন খোঁজ মেলেনি।
নিখোঁজ আবেদ (২০) ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলার ১ নং মনপুরা ইউনিয়নের কুলাগাজী তালুক গ্রামের আবুল বাসার মাঝির ছেলে। আবেদ পেশায় একজন জেলে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী, ২২ দিন বয়সের এক মেয়ে, মা ও বাবা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে নিজ জেলা ভোলা ছেড়ে অন্য জেলার ৩ জেলের সাথে সরকারি আইন অমান্য করে শরীয়তপুর জেলা জাজিরা থানার কাচিকাটা নদীতে একটি ট্রলার নিয়ে ইলিশ স্বীকার করতে যায় একই গ্রামের আবেদ এবং মনছুর এই দুই বন্ধু মিলে মোট পাঁচজন। এর পর নদীতে টহলে থাকা নৌ পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করলে তাহারা ট্রলার টি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে টহলে থাকা নৌ পুলিশের ছড়া গুলি করতে থাকলে ৫ জেলে নদীতে ঝাঁপ দেয় এর পর নৌ পুলিশ ৩ জেলেকে নদী থেকে আটক করলেও খোঁজ মেলেনি ২০ বছরের টগবগে যুবক আবেদের।
এ বিষয় নৌ পুলিশের ছড়া গুলি খেয়ে আহত হওয়া মনছুর বলেন, আমি আবেদ সহ জাজিরা থানার আরও ৩ জন সহ ১৩ তারিখ সকাল ৮ টায় কাচিকাটা নদীর লাল বয়ার কাছে জাল ফালাই। এরপর আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮ টায় মা ইলিশ রক্ষায় টহলে থাকা নৌ পুলিশের একটি স্পিডবোট আমাদের দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমরা ভয় পেয়ে ট্রলার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নৌ পুলিশ আমাদের দিকে ছড়া গুলি করতে থাকে। এর পর আমরা ৫ জন নদীতে ঝাঁপ দেই সবার গায়ে প্রচুর পরিমাণ ছড়া গুলি লেগেছে। আমি কোন রকমে দ্রুত সাঁতার কেটে একটি চরে উঠে যাই। আমি চর থেকে দেখি নৌ পুলিশ বাঁশ দিয়ে টেনে টেনে আমাদের ট্রলারের লোকগুলোকে তাদের বোটে উঠিয়েছে এর পর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।আমি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণে ভেবেছিল আমি মরে গেছি তাই আমাকে ফেলে রেখে গেছে। এরপর কি হয়েছে আমি আর কিছু দেখতে পাইনি। এর তিন ঘণ্টা পর অন্য একটি নৌকার মাঝিরা আমাকে দেখতে পায়। আমাকে দেখতে পেয়ে তাদের বোটে উঠিয়ে আমার মাথায় পানি দিলে আমার জ্ঞান ফিরে আসে। আমার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে আমার বাড়িতে তারা কল করে এবং আমাকে জাজিরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। জাজিরা হাসপাতলে আমার শরীর থেকে প্রায় ২৭ টা ছড়া গুলি বের করে। এখনো আমার গায়ে অনেক ছড়াগুলি আছে যেগুলো এখনো বের করতে পারেনি।
আবেদের বাবা বলেন, আমি জাজিরা থানা, জাজিরা নৌ পুলিশ থেকে শুরু করে সকল জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছি। আজ প্রায় আট দিন হয়ে গেল এখনো পর্যন্ত আমার ছেলের কোন খোঁজ পাইনি। আমার ছেলে বেঁচে আছে কিনা তাও জানিনা। আমি জাজিরা থানা নৌ পুলিশের কাছেও গিয়েছি তারা আমার সাথে এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে চায় না। তারা শুধু বলে আমরা জানিনা। আমি আমার সন্তানকে চাই।
এই বিষয়ে জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মাইনুল বলেন, এটা নৌ পুলিশের বিষয় এটা আমাদের এরিয়া না। এই বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কেউ কোন জিডি করেনি ।
এই বিষয়ে জাজিরা নৌ পুলিশের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
মন্তব্য করুন: