প্রকাশিত:
২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৫১
দিন দিন যানজটের শহরে পরিণত হচ্ছে যশোর। এই যানজট সমস্যার সমাধানে না আছে যশোর পৌর কর্মকর্তাদের চোখ। না আছে ট্রাফিক পুলিশের, দিন দিন যানজট নয় যেন বিরক্তিকর এক চিত্র সাধারণ মানুষের চোখে মুখে। রিক্সা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ প্রাইভেট কারের বেপরোয়া চলাচল সেই সাথে আছে দুর্ভোগে পড়া মানুষের ভোগান্তি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, যাদের হাতে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা, তারাই বিভিন্ন বাহন প্রতিষ্ঠানের মালিক; কেউ আবার মালিক-চালক সমিতির হোতা। সরজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকায় চলাচলরত লাইসেন্সকৃত ইজিবাইক কিংবা রিকশার সংখ্যা পৌরসভার হিসাবের থেকে বহুগুণ বেশি। সেসব যানবাহন বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও অনটেস্টের মোটরসাইকেল চলছে হর-হামেশ, ট্রাাফিক পুলিশের অ্যাকশন না থাকায় মোটরসাইকেল আরোহীরাও মানছেন না কোনো নিয়ম কানুন। কিশোররাও এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরে বৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৫ হাজারের মতো
পৌরসভার দেয়া লাইসেন্স অনুযায়ী বৈধ রিকশা রয়েছে ২ হাজার ৯শ’ ৭৩টি। স্মার্ট রিকশা ২৪টি এছাড়া ভ্যান রয়েছে ২শ’ ৯৩টি। পৌরসভার তথ্যমতে সবমিলিয়ে শহরে ৮,২৯০টি বৈধ যানবহন রয়েছে। শহরের প্রাণ কেন্দ্র দড়াটানা বড় বাজার এলাকা, ঘোপ এলাকা, বকুল তলা, মাইক পট্টি, চৌরাস্তা থেকে মনিহার পর্যন্ত সকল এলাকায় দিনে অন্তত ৪ থেকে ৫ বার যানজট লেগে যায়। এর ফলে কার্যত শহরে ঢোকা বেরোনোর অবস্থা থাকে না।
নিজের হতাশার কথা জানিয়ে শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান স্বাক্ষর বলেন শেখ হাসিনার আমলে তার দোসররা গণপরিবহনসহ যানবাহনের নানা সেক্টরে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে যা ইচ্ছা তাই করেছে। মালিক-চালক-শ্রমিক সমিতিগুলো সড়কের বারোটা বাজিয়েছে। পুরো সিস্টেমটাকে নষ্ট করে ফেলেছে। দিনের বেলা দড়াটানা ব্রিজ এর পাশ থেকে, কাঠের পুল ব্রিজ এর পাশ থেকে থ্রী হুইলার, ইজিবাইকের যাত্রী ওঠানামা করানোর জন্য অবস্থানের কারনেও যানজট লেগে থাকে এই এলাকায়। আসে পাশে আছে শহরের প্রাই সব বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালসহ ঔষধ, খাবারের দোকান। যে কারনে এখানে সবসময়ে জনসমাগম বেশি থাকে। এখানেই অবস্থিত যশোর ট্রাফিক পুলিশের অফিসটি। তারপরেও তাদের কোন দেখভাল নেই।
যশোরের পালবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আইনুল জানান, বিগত সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা প্রতিটি যানবাহনের সেক্টর নিয়ন্ত্রণে রেখে সন্ত্রাসীদের কাছে লিজ দেওয়ার মতো করে বিভিন্ন স্ট্যান্ড গুলো দখল করে রেখেছিল। এই সন্ত্রাসীরা দলবল নিয়ে নানা ভাবে শহরের দখল নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে রেখেছিল কিন্তু বর্তমান অন্তরবর্তী কালীন সরকারের মেয়াদ এক বছরের বেশি সময় পার হলেও যেন উদাসিনতা নিয়ে চলছে ট্রাফিক বিভাগসহ প্রশাসনের এই সংস্থাগুলি। পথচারীরা বলছেন, ট্রাফিক বিভাগের লোকজন চরম উদাসিন।
ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব সার্জেন্ট ও সদস্যরা অনেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অল্প বয়সী ছেলেরা যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে তাদের গাড়ি চালাচ্ছে। হেলমেট বিহীন শহরের বিভিন্ন স্থানে কিছু বাইক প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে, আশা করছি কিছু দিনের মধ্যে সব কিছু ঠিক করে সামনের দিনগুলোয় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। যশোরে যানজটের কারণ ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব বাহনের কারণেও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকগুলোর মনে মৃত্যুর ভয়ও নেই। তারা রাস্তার মাঝে থেমে যায়, উল্টোদিক থেকে এসে অচলাবস্থা তৈরি করে। ইজিবাইকগুলিও সেই অবস্থা শহরের মধ্যে যে ভাবে পারছে সেভাবে থামছে, মানতে চাচ্ছে না কোন নিয়ম কানুন। যশোর শহরের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকসা, ইজিবাইক চলাচল করে। এসবের চালকরা যাত্রী তোলার জন্য প্রাই সময়ই সড়কের মাঝে অবস্থান করে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাস্তার মোড় দখল করে রাখে। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করে না। তিনি বলেন, এসব ঠিক করতে হলে আগে সাধারণ যাত্রীদের সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। যশোর জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে শহরের এ অবস্থা চলতেই থাকবে।
ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা আরো বলেন, কিছু মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেট ছাড়াই দেদারসে শহরে চলাচল করে, ইজিবাইক ও অটো রিক্সা পৌরসভার লাইসেন্স ছাড়াই শহরে প্রবেশ করছে। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি পৌর প্রশাসকের সাথে কথা বলেছেন। বৈধ যানবহনের প্রকৃত সংখ্যা তাদের কাছে নেই। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে তা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অভিযানে নামবেন বলে জানান।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, ইতিমধ্যে তারা যানজট নিরসনে কাজ শুরু করেছেন। বিভিন্ন বৈধ যানবহনের নির্দিষ্ট সংখ্যা তারা বের করছেন। তারা যশোর শহরে অবৈধ যানচলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মাইকিং করছেন। দ্রুতই অবৈধ যানবাহন চলাচলে অভিযানে নামার আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন: