প্রকাশিত:
২৬ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:০৯
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরিতে খাস আদায়ে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা ঘাটে কর্মরত আনসার সদস্যদের দিয়ে যাত্রী টিকিটের টাকা খাস আদায় করছেন। কিন্তু তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করেও দিচ্ছেন না টিকিট। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে চাইলে তথ্য দিতে গড়িমশি করে রহস্যজনক আচরণ করেন বিআইডব্লিউটিসি’র কর্মকর্তা।
বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা কার্যালয় থেকে জানা যায়, চলতি মাসের ৮ তারিখ ফেরিতে যাত্রী পারাপারের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরবর্তিতে ইজারা না দেয়ায় বিআইডব্লিউটিসি যাত্রী পারাপারে নিজ ব্যবস্থাপানায় খাস আদায় শুরু করেছে। ৯ অক্টোবর থেকে তারা উভয় পারের ঘাটে আনসার সদস্যদের দিয়ে টিকিট সরবরাহ করছে। আনসার সদস্যরা যাত্রী প্রতি ৪০ টাকা ভাড়া আদায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু টিকিট দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
সরেজমিনে পাটুরিয়া ৪ নম্বর ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ঘাটে যাত্রী টিকিটের ডিউটিতে ছিলেন আনসার সদস্য মো. মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া ৪০ টাকা করে আদায় করছেন। কিন্তু, কাউকে টিকিট দেননি। পুরো টাকা কর্মকর্তাদের যোগসাযশে পকেটস্থ করছেন। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে জানতে চাইলে দুই সদস্য রহস্যজনক আচরণ করেন।
তারা জানান, ডিজিএম এর নির্দেশে ফেরি প্রতি একজন যাত্রী বিনা টিকিটে পার করছেন। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেন টিকিট দিচ্ছেন না? এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তারা।
বিষয়টি জানালে ডিজিএম আব্দুস সালম ও ডিওটি চলাকালীন সময় গ্রুপ লিডার রায়হান ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের কাছে প্রমাণসহ বিষয়টি উত্থাপন করলে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আনসার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা বিষয়টি স্বীকার করেন।
৯ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত কত টাকা যাত্রী পারাপারে খাস আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তথ্য দিতে গড়িমশি করেন। সংবাদ প্রকাশ না করতে নানাভাবে ম্যানেজ ও বিভিন্ন স্তরের লোকজন দিয়ে তদবিরের চেষ্টা করেন।
ঘাটে ভিন্ন পেশায় কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইজারাদারের লোকজন প্রতিদিন উভয় পারে কমপক্ষে ৩ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে ফেরি ভাড়া আদায় করতেন। এখন খাস আদায় করা হচ্ছে, তাতে যাত্রী কিছু কম হতে পারে। এ যাবৎ কত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। তা জানতে পারলে লুটপাটের প্রকৃত হিসাব দৃশ্যমান হতো। তবে, টিকিট না দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আনসার সদস্যরা একা নন। এই টাকা ঘাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) আবদুস সালাম বলেন,‘ঘাটে জনবলের সংকট রয়েছে। তাই আনসার সদস্যদের দিয়ে লুজ যাত্রী টিকিটের টাকা আদায় করা হচ্ছে। তারা অনিয়ম করেছে।’
তবে, এ পর্যন্ত কত টাকা কোষাগারে জমা পড়েছে? এই তথ্য দিতে গড়িমশি করেন তিনি।
মন্তব্য করুন: