প্রকাশিত:
৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৫
ভোলার মনপুরা উপজেলায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত ভিজিএফ খাদ্যশস্য জেলেদের ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না প্রকৃত জেলেরা। জেলেদের চাল পাচ্ছেন ইউএনও অফিসে কর্মরত স্টাফরা।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) জেলেদের জন্য বরাদ্দ কৃত বিজিএফ চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ইউএনও অফিসের স্টাফ দের বাসায় জাওয়ার সময় সরকারী ৪ বস্তা চাল আটক করে গ্রামবাসী রা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়ন এর প্রশাসক উপজেলা প্রধান বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:ফজলুল হক উপজেলা ইউএনও অফিসের কর্মরত থাকা ১১ জন স্টাফের জন্য ২৫ কেজি করে ২৭৫ কেজি চাল, উপজেলার মনপুরা ইউনিয়ন এর প্রশাসক কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুল্লাহ আল নোমান উপজেলা ইউএনও অফিসে কর্মরত থাকা ১২ জন স্টাফের নাম লিখে ছিল স্বাক্ষর দিয়ে ৫০ কেজি করে ৬০০ কেজি বিজিএফ চাল, কলাতলী ইউনিয়ন এর প্রশাসক উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলজিইডি কর্মকর্তা মো:মোস্তাফিজুর রহমান ১৩ জন ইউএনও অফিসের স্টাফের জন্য ২৫ কেজি করে ৩২৫ কেজি, ৩ নং দঃ সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোঃ আশরাফ হোসেন ১৩ জন ইউএনও অফিসের স্টাফের জন্য ২৫ কেজি করে ৩২৫ কেজি ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক উপজেলা সমবায় অফিসার মো:নাছির উদ্দিন ১১ জন ইউএনও অফিসের স্টাফের জন্য ২৫ কেজি করে ২৭৫ কেজি করে উপজেলা পরিষদের স্টফদের নাম লিখে ছিল স্বাক্ষর দিয়ে লিস্ট রেখে যায় উপজেলা খাদ্য গুদামে ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪ টায় উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ইউএনও অফিসের স্টাফদের জন্য পাঁচ ইউনিয়নের প্রশাসকদের রেখে যাওয়া জেলেদের বিজিএফ চাল নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন আটক করে। পরে আটক কৃত ৪ বস্তা চাল উপজেলা খাদ্য গুদামে পাঠানো হয়।
এবিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের প্রশাসক উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, আমি আমার ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত বিজিএফ চাল দিয়েছি ১৫ দিন আগে। আপনি ইউএনও আফিসের স্টাফদের কে কি কোন সরকারি বিজিএফ চাল দিতে পারেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না না। এই বিষয়ে তিনি কোন সৎ উত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে হাজীরহাট ইউনিয়ন এর প্রশাসক উপজেলা প্রধান বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো:ফজলুল হক বলেন, তিনি প্রথমে এই বিষয়ে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে তথ্য আছে আপনি ১১ জন ইউএনও অফিসের স্টাফ দের কে ২৭৫ কেজি চালের লিস্ট দিয়েছেন এমন কথা বল্লে তিনি বলেন, আমি ঈদ বিজিএফ থেকে পরবর্তীতে সমন্বয় করব।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি জানান, স্থানীয় সূত্রে জানতে পারি চাল আটকের বিষয়ে। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ঘটনার সাথে যে জড়িত ছিল তাকে ঘটনাস্থলে না পাওয়া যাওয়ার কারণে আমরা সাত বস্তা সরকারি চাল জব্দ করে উপজেলা খাদ্য গুদামে রাখি।
মন্তব্য করুন: