প্রকাশিত:
৩ নভেম্বর ২০২৫, ১৫:৩৭
গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৮২টি ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য সৌদি সরকারের অনুদানে পাঠানো দুম্বার মাংস প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছেনি। অভিযোগ উঠেছে, এসব মাংস স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘরেই পৌঁছেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে গত শনিবার গাইবান্ধায় পাঠানো হয় মোট ২২৭ কার্টন দুম্বার মাংস। নির্দেশনা ছিল দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ জনগণের মধ্যে এসব মাংস বিতরণের। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ আসার পর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গোপনে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে এসব মাংস চেয়ারম্যান, মেম্বার ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গোবিন্দগঞ্জে ৪৭, ফুলছড়িতে ১৯, সুন্দরগঞ্জে ৪২, সাঘাটায় ২৮, পলাশবাড়িতে ২৫, সাদুল্লাপুরে ৩০ এবং সদর উপজেলায় ৩৬ কার্টন বরাদ্দ ছিল। অথচ চরাঞ্চলের ১৬৫টি গ্রামের দরিদ্র মানুষ জানেই না এ মাংসের কোনো খবর।
সুন্দরগঞ্জের চর বেলকার বাসিন্দা শামসুল হক মাইজভাণ্ডারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কত দিন মুখে মাংস পরি না, এখনো এক টুকরাও পাইনি।”
অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জগৎবন্ধু মিত্র দাবি করেছেন, “কমিটি করে স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় মাংস বিতরণ করা হয়েছে।”
তবে এক সমাজসেবা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি কোনো এতিমখানায় এ মাংস বিতরণ করা হয়নি।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “গোলমাল এড়াতে মাংস মূলত এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুস্থদের জন্য পাঠানো সৌদি দুম্বার মাংস গেল কোথায়?
মন্তব্য করুন: