শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

সিংগাইরে ওসি ও এএসপির বিরুদ্ধে নির্যাতন-অভিযোগে আদালতে মামলা

হাবিবুর রহমান, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

প্রকাশিত:
৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৫২

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে থানা পুলিশের ওসি জে.ও.এম তৌফিক আজম এবং জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, গালিগালাজ, হুমকি ও অবৈধ আটক করার অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। সোমবার সিংগাইর থানার আমলী আদালতে স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন এই মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর— সি.আর ৮৯৫/ সিং ২০২৫।

মামলার বাদী মনির হোসেন অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের সিংগাইর থানা সহসভাপতি ছানোয়ার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে তার শ্বাশুড়ী রহিমা খাতুন গত ৫ জুলাই থানায় একটি এজাহার দিতে গেলে ওসি তৌফিক আজম তা গ্রহণ না করে উল্টো তাদের হুমকি-ধমকি দেন। বাদীর দাবি, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতার নাম শুনে ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “ছানোয়ার আমার খুব কাছের মানুষ, তার বিরুদ্ধে মামলা নিলে তোদেরই মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবো।”

মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়, ওই সময় ওসি রহিমা খাতুনসহ উপস্থিত স্বজনদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখান এবং হাজতে পাঠানোর হুমকি দিয়ে অপমান করেন। পরে বাদী ও তার স্বজনরা প্রাণভয়ে থানাছাড়া হন। বিষয়টি মানবাধিকার সংগঠন ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে সংগঠনের প্রধান পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে অভিযোগ পাঠান। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার অফিস থেকে সাক্ষীসহ উপস্থিত হওয়ার নোটিশ পান তারা।

বাদীর অভিযোগে বলা হয়, নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ আগস্ট সাক্ষীদের নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে উপস্থিত হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। অভিযোগকারী পক্ষকে ‘অপমানজনক ও অশ্লীল ভাষায়’ গালিগালাজ করা হয়। এমনকি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী প্রধানকে লক্ষ করে এএসপি আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে এএসপি আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদীর শ্যালক রহিম খাকে অফিসের ভেতরে লাথি মেরে ফেলে দেন। এরপর মহিলা ও পুরুষ পুলিশ এনে বাদীসহ চারজনকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি অন্ধকার কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ সুপার পরিস্থিতি জেনে এসে তাদের ছাড়িয়ে দেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মামলার বাদীদের ‘মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন বলে বাদীর দাবি।

এই ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হয় বলে জানা গেছে। সুস্থ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সাক্ষী হাজির করার কথা বলা হয়েছে।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৬৬, ৩৪২, ৩২৩, ৫০০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করেছেন বাদী।

এর আগেও একাধিকবার সিংগাইর থানার ওসি জেওএম তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বরাবর একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু সেই সকল অভিযোগের কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

এবিষয়ে বিষয়টি নিয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, “আমাদের জানা মতে আদালতে একটি আর্জি জমা পড়েছে, কিন্তু এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। আদালত থেকেও কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।”


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর