শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

শিবালয়ে সিন্ডিকেটের থাবায় কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উপজেলার বাইরে সার পাচার

মোঃ ফারুক হোসেন, শিবালয়

প্রকাশিত:
১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:০১

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা আরিচা বাজারের বিসিআইসি ডিলার যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশেনের মালিক ও বিএসডিসি ডিলার নালী ট্রেডার্স মালিক শুকুর আলী শিকদারের বিরুদ্ধে সার বেশি দামে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ডিলাররা সার পাচারকালে বার বার ধরা পড়লেও কৃষকদের প্রতি মানবিক বিবেচনার অজুহাত ও দায়সাড়া শোকজ ইস্যু করেই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা। ডিলারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দেদারছে সার পাচার করছেন ডিলাররা। এ কারণে উপজেলায় সার সংকটের আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

ভূক্তভোগিরা, স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা জানান, যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের সার ব্যবসা পরিচালনা করেন লালন মিয়া। তিনি চলতি মওসুমের শুরু থেকেই এলাকার বাইরে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ৩ নভেম্বর দৌলতপুর উপজেলার এক কৃষকের কাছে ৮ বস্তা সার বিক্রি করেন। এই সার পাচারের সময় ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া এলাকায় ধরা পড়েন। বিষয়টি শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের জানালে তারা সার ফেরত নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশেনের মালিককে শোকজ করেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এরপরই গত বুধবার ঘিওর উপজেলার এক কৃষকের কাছে ৬ বস্তা সার বেশি দামে বিক্রি করেন। এই সার পাচারের সময় শ্রীবাড়ি এলাকায় ধরা পড়েন। বিষয়টি শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিজিয়া তরফদারকে জানালে মানবিক বিবেচনায় সারসহ কৃষককে ছেড়ে দেন। সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি।

ক্রেতা, ভ্যান চালক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশেন ও নালী ট্রেডার্স থেকে ৫৮ বস্তা সার বেশি দামে কিনে হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। সার পাচারের জন্য আরিচা গরু হাটের পাশে নৌকায় বোঝাই করার সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা উপস্থিত হন।

ত্রেতা জামাল মোল্লাসহ আরও কয়েকজন জানান, যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশেন থেকে ৪৫ বস্তা ও নালী ট্রেডার্স থেকে ১৩ বস্তা ডিএপি সার ১১৫০ টাকা করে কিনেছেন। ডিলাররা তাদের কাছ থেকে পরিচয়পত্র নেননি। আর সারের কোন ক্যাশ মেমো ও চালান দেননি।

আরেক ক্রেতা জানান, দুই সপ্তাহ আগে তাদের কাছ থেকে ৫০ বস্তা সার বেশি দামে কিনে নিয়েছেন। তার বাড়িও অন্য উপজেলায়।

এই বিষয়টি শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিজিয়া তরফদারকে জানানো হয়। সেখানে উপস্থিত হন যমুনা ট্রেডিং কর্পোরেশনের পরিচালক লালন মিয়া। তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি ম্যানেজ করার অপচেষ্টা করেন। সার পাচারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘ভূল হয়েছে আর করবো না। এবারের মতো ছেড়ে দেন।’ সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য লালন মিয়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন করিয়ে তদবির ও ম্যানেজের চেষ্টা করেন।

এরপর ঘটনাস্থলে আসেন শিবারয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। তিনি সারের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত না দিয়ে লালন মিয়াকে সন্ধ্যার মধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বলেন। বিষয়টি যেন বেশি দুর না গোড়ায় বলে হুশিয়ারি দেন।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উপ-পরিচালক সাজাহান সিরাজ বলেন,‘ যদি ডিলাররা এসব কাজ করে থাকেন। তাহলে তাদের ‍বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর