শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

আলোকবর্তিকা বেগম রোকেয়া

রেহানা ফেরদৌসী

প্রকাশিত:
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:৪৬

৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রোকেয়া দিবস। তিনি বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী। ব্রিটিশ ভারতের একজন বিশিষ্ট বাঙালি নারীবাদী চিন্তাবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক কর্মী। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতে নারী মুক্তির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত। নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের আজ ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে এই মহীয়সী নারীর জন্ম। ১৯৩২ সালের একই দিনে তিনি কলকাতায় মারা যান। ক্ষণজন্মা এই নারীর জন্ম ও মৃত্যুদিন ঘিরে প্রতিবছর পালন করা হয় রোকেয়া দিবস।

উনবিংশ শতাব্দীতে রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের মূল চাবিকাঠি শিক্ষা। এ উপলব্ধি থেকে বেগম রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তারে বিরাট সাহসী ভূমিকা পালন করেন। নারীমুক্তি ও মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নারীসমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন বেগম রোকেয়া।
নারীর সমঅধিকার আদায়ের দাবি রোকেয়ার সাহিত্যে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। নারীকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে তার উপলব্ধি, দর্শন ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারও দিবসটি পালন করা হবে।’আমরা সমাজেরই অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কি রূপে?’ নারী–পুরুষের সমতা ও সম–অধিকারের ভিত্তিতে সমাজ প্রতিষ্ঠার এই তাগিদ দিয়ে মহীয়সী রোকেয়া লড়েছেন নারীর জন্য।

১৯০৫ সালে রোকেয়ার বিখ্যাত ইংরেজি গ্রন্থ ‘সুলতানাস ড্রিমস’ প্রকাশিত হয়, যা পরে বাংলায় ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামেও প্রকাশিত হয়। বইটিকে বিশ্বের নারী জাগরণমূলক সাহিত্যকর্মের একটি উল্লেখযোগ্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিবেচনা করা হয়। গ্রন্থটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’ তালিকায়ও স্থান পেয়েছে। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনা হলো মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী ইত্যাদি। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে বিবিসি বাংলার 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' জরিপে ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, উপন্যাস, বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ও শ্লেষাত্মক রচনায় রোকেয়ার স্টাইল ছিল স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

প্রতিবারের মতো এবারও নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চার বিশিষ্ট নারীকে রোকেয়া পদক দেওয়া হয়েছে। এবার পদক পেয়েছেন নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা),নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার),মানবাধিকার শ্রেণিতে ও নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া)।

বেগম রোকেয়া দিবস বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পালিত একটি জাতীয় দিবস।এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দিবসটি উদ্‌যাপন করা হয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর