প্রকাশিত:
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও অহিংসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)–এর উদ্যোগে একটি সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শহরের সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, দেশের আপামর জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ, রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও অহিংসা বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য কেবল বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সামনে সেই ঐক্যের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। অহিংসা, পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার চর্চার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হকের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী আলহাজ মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রার্থী লিটন হুসাইন জিহাদসহ অন্যান্য নেতারা।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট রুবাইয়াত হাসান ও ম্যাফ সদস্য শাহাদত হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ম্যাফ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদ হাসান সানি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়।
ইউকেএইডের অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্রেংদেনিং পলিটিক্যাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ফর সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট (বি-স্পেস) প্রকল্প এই উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করে।
মন্তব্য করুন: