শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

নবীনগরে শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে কৃষি উৎপাদনে শঙ্কা

নাদিরা বেগম , নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৫

গত এক সপ্তাহে ধরে সারাদেশের ন্যায় নবীনগর উপজেলা জুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বছরের এই সময়ে কৃষি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। শৈত্যপ্রবাহে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়, বিশেষত বোরো ধানের বীজতলা হলুদ হয়ে মরে যায়, আলু, সরিষা, পেঁয়াজ, টমেটো, শিম, লাউ, করলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি ও ফসলের মুকুল ও পাতা কালো হয়ে যায়, যা ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস করে। তীব্র শীতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ডগা মরে যায় এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ে, যা কৃষকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে বীজতলা হলুদ হয়ে যায় এবং চারা মারা যায়, যা পরবর্তী রোপণ মৌসুমকে প্রভাবিত করে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় কাইতলা উত্তর, নাটঘর, নবীনগর পূর্ব, শিবপুর, বিদ্যাকুট ইউনিয়নের হাওরের ধান রোপণ পুরোদমে চলছে। আবার অপেক্ষাকৃত উচু জমি ইব্রাহিমপুর, লাউরফতেহপুর, জিনদপুর ইউনিয়নে বীজতলা তৈরি এবং পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৯০৫ হেক্টর জমির বীজতলা তৈরি হয়েছে, যা দিয়ে রেকর্ড ১৮১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদিত হবে। শৈত প্রবাহে শীতের প্রকোপ থেকে বীজতলা রক্ষার্থে উপসহকারী কৃষি অফিসারদের পরামর্শে বোরো ধানের বীজতলায় কৃষক বিকেলে সেচ দিচ্ছে, সেই পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিচ্ছে প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমা হওয়া শিশির ঝরিয়ে নিতে কাজ করছে।

এই দিকে নবীনগর উপজেলায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে আলু এবং ২১০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন টমেটো আবাদ হচ্ছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে আলু এবং টমেটোর নাবী ধ্বসা রোগের আক্রমণ দেখা দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নাবী ধ্বসা রোগের প্রতিরোধের জন্য অনুমোদিত মাত্রায় ম্যানকোজেব গোত্রের ছত্রাকনাশক ৫ থেকে ৭ দিন পর পর স্প্রে করতে পরামর্শ দিচ্ছে। নবীনগর উপজেলায় প্রায় ৪১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হচ্ছে। তীব্র শীতে সরিষায় রোগ বালাই এবং পলিনেশনে সমস্যা হতে পারে এমনটা মনে করছে স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।

শৈত্য প্রবাহের প্রভাবে কৃষকদের করনীয় নিয়ে সম্পর্কে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, কৃষিতে আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সবসময় কৃষকদের কাজ করতে হয়। শৈত্য প্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রবি শস্য এবং বোরো বীজতলা। আমরা কৃষকদের শুরু থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশাকরি দ্রুত আবহাওয়া অনূকুলে চলে আসবে।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর