প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৪
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোথায় বসে দায়িত্ব পালন করবেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যকর যাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অধিকাংশ পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীরা। ফল প্রকাশের কয়েক দিন পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের অনুমোদন দেওয়া হলেও তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট কার্যালয় বা বসার জায়গা নির্ধারিত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের জন্য আলাদা কোনো ভবন নেই। কলেজ থাকাকালে ছাত্র সংসদের জন্য নির্ধারিত কিছু কক্ষ থাকলেও দীর্ঘদিন নির্বাচন না থাকায় সেগুলো অব্যবহৃত ছিল কিংবা অন্য কাজে ব্যবহার হয়েছে। ফলে নতুন করে জকসুর জন্য উপযুক্ত কার্যালয় নির্ধারণ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলার যে কক্ষটি একসময় ছাত্র সংসদের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেটি বর্তমানে অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো অবস্থায় রয়েছে। কক্ষটির আয়তনও নির্বাচিত ২১ জন প্রতিনিধির একসঙ্গে বসার জন্য যথেষ্ট নয়। ভিপি, জিএস ও এজিএসদের জন্য আলাদা কক্ষ, সভাকক্ষ কিংবা দাপ্তরিক কাজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেখানে নেই।
নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা বলছেন, দ্রুত একটি স্থায়ী বা অন্তত কার্যকর অস্থায়ী কার্যালয় নির্ধারণ না হলে জকসুর কার্যক্রম শুরু করাই কঠিন হবে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিদাওয়া শোনা, প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় অফিস অপরিহার্য বলে তাঁরা মনে করেন।
এই অনিশ্চয়তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, জকসু সক্রিয় হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গতি আসবে। তবে বসার জায়গা ও অফিস সংকট দীর্ঘায়িত হলে সেই প্রত্যাশা পূরণে বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের মতে, জকসু শুধু একটি প্রতিনিধি পরিষদ নয়; এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চার কেন্দ্র। তাই একটি সুসংগঠিত অফিস, সভাকক্ষ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, যেহেতু এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন, তাই পূর্বনির্ধারিত কোনো বসার জায়গা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অবকাশ ভবন বা অন্য কোনো স্থানে জকসুর জন্য অস্থায়ীভাবে কক্ষ বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বসার জায়গা নিয়ে সিদ্ধান্তে বিলম্ব হলে জকসুর কার্যকর ভূমিকা শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই করছেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন: