প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৬
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয়ই রয়েছেন এবং এই প্রাণহানার জন্য তিনি ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’কে দায়ী করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিকে শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার নিয়েছে কড়া ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী এক আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র দুই সপ্তাহে ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরানজুড়ে চলছে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান। প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা আগের কোনো সংকটে দেখা যায়নি। কয়েক দিন আগেও যেসব সড়কে সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে।
তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, শুক্রবার পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ—অস্বাভাবিক ভিড় এবং টানা গোলাগুলির শব্দে শহর কেঁপে উঠেছিল। তবে শনিবার রাত থেকে তুলনামূলকভাবে শান্ত ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক ইরানি সাংবাদিক বলেন, “এখন রাস্তায় নামা মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া।”
এই সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন—এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন কয়েক মাস আগেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হয়েছিল। ওই সংঘাত দেশটির শাসনব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তোলে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান অস্থিরতা ইরানকে আলোচনার পথে ফেরার সুযোগও করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, তেহরান আবারও কূটনৈতিক সমাধানের টেবিলে ফিরতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
মন্তব্য করুন: