শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

প্রতিদিন গড়ে দুই বেওয়ারিশ লাশ দাফন রাজধানীতে

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৪

রাজধানীতে ২০২৫ সালে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা ৬৪৩টি মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন ও দাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে ৪৬১ জনের এবং জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫ জনের মরদেহ। অন্য ধর্মের সাতজনের মরদেহ পোস্তগোলা শ্মশানে দাহ করা হয়। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৪ জন এবং প্রতিদিন প্রায় দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ দাফন বা সৎকার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে রাজধানীতে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল ৫৭০টি মরদেহ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ৭৩টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাসে সারা দেশে চার হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে। একই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলাও নথিভুক্ত হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জানুয়ারিতে ৫১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ জন, মার্চে ৫৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৫৩ জন, জুনে ৬০ জন, জুলাইয়ে ৭০ জন, আগস্টে ৪৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৫৯ জন, অক্টোবরে ৭২ জন, নভেম্বরে ৬৯ জন এবং ডিসেম্বরে ৩৪ জনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। একই সময়ে কয়েকজনের মরদেহ দাহও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে মোট ১৪ হাজার ৮৭৬ জনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের পর অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয় শনাক্তে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। শুধু মরদেহ উদ্ধার করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়—এমন মনোভাব তদন্ত প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তুলছে বলে তারা মনে করে। পরিচয় শনাক্ত করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলেও তারা উল্লেখ করে।

নৌ-পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদী, খাল ও জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া অনেক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা না যাওয়ায় হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি হারায়। পচে যাওয়া মরদেহের ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপ নেওয়া কঠিন হয়, আবার অনেক ছিন্নমূল ও ভবঘুরে মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় শনাক্ত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস ও ডিজিটাল শনাক্তব্যবস্থা থাকায় দ্রুত পরিচয় শনাক্ত সম্ভব হলেও দেশে সে ধরনের সমন্বিত কাঠামোর অভাব রয়েছে। পাশাপাশি অপরাধস্থল সুরক্ষা, ফরেনসিক সক্ষমতা ও সমন্বিত তদন্ত টিমের অভাবও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সড়ক, নদী ও জলাশয় থেকে উদ্ধার করা মরদেহ পরিচয় নিশ্চিত না হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন জলাশয় থেকেও একাধিক অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যেগুলোর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করাই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর