প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:৫৫
গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপের একাধিক শীর্ষ নেতা। ইউরোপের আটটি দেশ গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় তাদের লক্ষ্য করেই এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর প্রথম ধাপে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বহাল থাকবে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করে ট্রাম্প এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। এর প্রতিবাদে সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
ইউরোপীয় দেশগুলোর বক্তব্য, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কোনো একক রাষ্ট্রের নয়; এটি ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্বের মধ্যেই থাকা উচিত। এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত সংখ্যক সৈন্য মোতায়েনও করেছে।
শুল্ক ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন, মিত্র দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে নিরাপত্তা ইস্যু সমাধানের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার নীতির পরিপন্থী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক সিদ্ধান্ত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে এবং ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন: