শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

লক্ষ্মীপুরে দাপনের ৫ বছর পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

মুহাম্মদ তছলিমুর রহমান, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:১৬

‎উচ্চ আদালতের আদেশে লক্ষ্মীপুরে এক শিশু কন্যার পিতৃ পরিচয় শনাক্ত করতে দাফনের প্রায় ৫ বছর পর কবর থেকে আবদুল মান্নান নামে এক প্রবাসীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। 
 
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে ওই প্রবাসীর পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার কমলা শীষ রায়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। 
 
নিহত আবদুল মন্নান সোহেল হামছাদি ইউনিয়নের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে। তিনি পেশায় কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ী ছিলেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আবদুল মান্নান প্রবাসী জীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হন। তিনি বিবাহের পূর্বেই হানিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে অপারেশন কালে সন্তান জন্মদানে অক্ষম হয়। ২০০৮ সালে ১লা মে লাহারকান্দি ইউনিয়নের রুহুল আমিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াছমিন সুইটিকে বিবাহ করেন। বিবাহের পর স্ত্রী নিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে দাম্পত্য জীবনে কোন সন্তান লাভ করতে পারেননি তারা। এজন্য দফায় দফায় চিকিৎসকের দারাস্ত হয়েও ব্যর্থ হন আবদুল মান্নান দম্পতি। এরপর মৃত্যুর পূর্বে ৪/৫ বছর নানা জটিল রোগ ও খাদ্য নালীতে ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে ২ বছর ভারতের এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ডিসচার্জ হয়ে দেশে ফিরেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ১লা জুন বাংলাদেশের ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল মান্নান।
 
এদিকে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পূর্বে স্ত্রী সাবিনা ইয়াছমিন সুইটির গর্ভে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এতেই বাঁধে বিপত্তি। মৃত্যুর পূর্বেই আবদুল মান্নান তার আত্মীয় ও এলাকাবাসীকে কন্যা সন্তানটি তার নয় বলে জানিয়ে গেছেন বলে দাবি স্বজনদের। এদিকে আবদুল মান্নানের মৃত্যুর পর স্ত্রী সুইটি স্বামীর ওয়ারিশ দাবি করে সমস্ত সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা চালায়। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নিহত আবদুল মান্নানের মাতা কাজল রেখা, ভাই শওকত, রাজু ও রুমা আক্তার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুরের যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আবদুর মান্নানের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সুইটি ও কন্যা সন্তান আয়েশা মনিকে (নাবালিকা) বিবাদী করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত বিবাদির বিরুদ্ধে রায় দেয়। পরবর্তীতে বিবাদী মান্নানের স্ত্রী সুইটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে হাইকোর্ট কন্যা সন্তান আয়েশা মনির পিতৃ পরিচয় শনাক্ত করতে আবদুল মান্নানের লাশ উত্তোলনের আদেশ জারি করেন। এ প্রেক্ষিতে দাফনের প্রায় ৫ বছর পর পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। 
 
‎নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মোহাম্মদ নাহিদ বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কবর থেকে আবদুল মান্নানের মরদেহ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি ঢাকার নির্দিষ্ট বিভাগে প্রেরণ করা হবে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর