শনিবার, ৭ই মার্চ ২০২৬, ২৩শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইরানই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে: বিশ্লেষক
  • ব্যাংক একীভূতকরণের উদ্যোগ চলমান রাখার বার্তা গভর্নরের
  • ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫
  • আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব
  • অপরাধ দমনে আরও বেশি সক্রিয় পুলিশ
  • ঢাকার আইসিইউয়ে ওষুধ-প্রতিরোধী ছত্রাক ‘সুপারবাগ’ ছড়িয়ে পড়েছে
  • ভূমি প্রতিমন্ত্রী অফিসে গিয়ে দেখেন কর্মকর্তারা কেউ আসেননি
  • রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে খামেনিকে হত্যা, বিবৃতিতে বাংলাদেশ
  • মঙ্গলবার থেকে মিলবে ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিট

শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:১৪

২০১৬ সালে রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিং’-এ সাজানো জঙ্গি অভিযানে ৯ তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম এই অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া এবং সাবেক ডিবি ও এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলাটি মূলত ২০১৬ সালের ওই হত্যাকাণ্ডকে সাজানো বিচারবহির্ভূত হত্যার উদাহরণ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জুলাই ২০১৬ সালের রাতে কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’তে একটি নাটক সাজানো হয়েছিল। নিহত ৯ তরুণকে আসলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং কেউ কেউ দুই থেকে তিন মাস ধরে ডিবি হেফাজতে ছিলেন। পরে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাদের ওই বাড়িতে জড়ো করা হয়। এরপর সোয়াত ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।

পুলিশি অভিযানে নিহতরা ‘জঙ্গি’ বলে প্রচার করা হলেও, প্রসিকিউশনের মতে এটি পুরোপুরি সাজানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় রাখার জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ সৃষ্টি করতে পুলিশি শীর্ষ কর্মকর্তারা এই ‘জঙ্গি নাটক’ মঞ্চস্থ করেছিলেন। ইসলামিক ভাবধারার সাধারণ মানুষদের গণহারে জঙ্গি তকমা দিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা তখন নিয়মিত ঘটনা হিসেবে পরিণত হয়েছিল।

প্রসিকিউশন বলেছে, রাতের বেলা ব্লক রেইডের নামে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সরকারের প্রয়োজনীয়তা দেখানো।

ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের পর, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানের পর জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত আলামত এবং পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সাজানো হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই মামলাটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করলে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সম্ভাবনা রয়েছে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর