প্রকাশিত:
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ভিন্নধর্মী প্রচারণা কৌশল নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার বাইরে গিয়ে তিনি খোলামেলা বক্তব্য, স্পষ্ট অবস্থান ও নতুন শব্দচয়নের মাধ্যমে ভোটারদের আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনী জনসভাগুলোতে তিনি উন্নয়ন বা ক্ষমতার পালাবদলের চেনা প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘হক’, ‘ইনসাফ’ ও ‘মদিনা মডেল’-এর কথা। এর মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রচারণায় তিনি অন্তত ৬২টি জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় গাড়ি ও হেলিকপ্টারে সফর করে তিনি সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রচারে বিএনপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরেছেন শফিকুর রহমান। তিনি ভোট ডাকাতি রোধ ও ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান। এতে নির্বাচনী বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নিজেদের ‘নতুন বিকল্প’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাচ্ছে। দীর্ঘদিন রাজনীতির মূলধারা থেকে দূরে থাকা দলটি এবার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার চেষ্টা করছে।
নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে শফিকুর রহমান সতর্ক ভাষায় বক্তব্য রাখছেন। তিনি নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে তাঁর কিছু বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
সব মিলিয়ে, শফিকুর রহমানের এই প্রচার কৌশল জামায়াতকে নতুনভাবে পরিচিত করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটাররা এই উদ্যোগকে কতটা গ্রহণ করবেন, তা জানা যাবে নির্বাচনের ফলাফলে।
মন্তব্য করুন: