প্রকাশিত:
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:২১
জাতীয় দিবস পালনের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনলো সরকার। নতুন জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত বাতিলই থাকছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে বর্তমান সরকার।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের বিষয়ে নতুন পরিপত্র জারি করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর জারি করা আগের পরিপত্রটি বাতিল করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী কয়েকটি বহুল পরিচিত দিবস সরকারি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস (১৭ মার্চ), শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী (৫ আগস্ট), বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী (৮ আগস্ট), ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, শেখ রাসেল দিবস (১৮ অক্টোবর), জাতীয় সংবিধান দিবস (৪ নভেম্বর) এবং স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস (১২ ডিসেম্বর)।
অন্যদিকে নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু দিবস। ৫ আগস্টকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের স্মরণে ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
পরিপত্রে দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—ক, খ ও গ। ক-শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবসকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।
খ-শ্রেণির ৩৭টি দিবস তুলনামূলক বড় পরিসরে পালন করা যাবে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা অংশ নিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে গ-শ্রেণির ৩৫টি দিবস সীমিত পরিসরে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এসব দিবস পালনে আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকবে না।
সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় বা পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিরত থাকতে পারে।
সরকার আশা করছে, নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে দিবস পালনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সরকারি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
মন্তব্য করুন: